কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫ এ ০৭:০৩ PM

ভোলা জেলাধীন বেতুয়া লঞ্চ টার্মিনাল ভবন ও গাছির খাল লঞ্চঘাটের নবনির্মিত পন্টুন উদ্ধোধন

কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ২৭-১০-২০২৫ আর্কাইভ তারিখ: ০১-০১-২০৩১

অদ্য ২৭.১০.২০২৫ খ্রিঃ তারিখ দুপুরে ভোলা জেলাধীন চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া নদী বন্দর টার্মিনাল ভবন এবং বিকালে চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত গাছির খাল নামক লঞ্চঘাটের নবনির্মিত পন্টুন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবঃ এম. সাখাওয়াত হোসেন উদ্ধোধন করেন। উদ্বোধনকালে বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা মহোদয় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সদস্য (প্রকৌশল) জনাব এ,কে,এ,এম ফজলুল হক, নৌপরিবহন উপদেষ্টা মহোদয়ের একান্ত সচিব (উপসচিব) মোঃ জাহিদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (পুরঃ) জনাব মোঃ মহিদুল ইসলাম, পরিচালক (নৌনিট্রা) মোঃ সাইফুল ইসলাম, পরিচালক (নৌসওপ) ক্যাপ্টেন মোঃ শাহজাহান, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) জনাব মোঃ সাজিদুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বরিশাল সার্কেল, পুর) জনাব আ. স. ম. মাশরেকুল আরেফিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পুরঃ) মোঃ আমজাদ হোসেনসহ প্রধান কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#বেতুয়া_নদী_বন্দর_টার্মিনালের_সারাংশ:
দেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলার সর্ব দক্ষিণের উপজেলা চরফ্যাশন। ১,১০৬.৩১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ জনপদে ৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। জেলা সদর ভোলা থেকে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরফ্যাশনের দূরুত্ব প্রায় একশত কিলোমিটার। আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কে চরফ্যাশনের সাথে জেলা সদরের নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ থাকলেও সেখানকার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের মোকাম হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। আর ঢাকার সাথে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের লঞ্চযোগে যোগাযোগ হয়ে থাকে। চরফ্যাশনের যে ক'টি লঞ্চঘাট রয়েছে, তারমধ্যে বেতুয়া ঘাটটিই সবচাইতে বৃহৎ ও যাত্রীবহুল। বেতুয়া নদী বন্দরটি চরফ্যাশন উপজেলা এবং মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। ২০২১ সালের ১২ ই অক্টোবর একটি গেজেটের মাধ্যমে বন্দরটি ঘোষিত হয়।জনসাধারণের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও ঝুঁকিমুক্ত ভ্রমণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিগত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই টার্মিনালটির প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ৩তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক এ টার্মিনালটি উপকূলীয় জেলা ভোলার একমাত্র দৃষ্টিনন্দন লঞ্চ টার্মিনাল। উন্নতমানের অবকাঠামো ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বেতুয়া নদীর পাড়ে ৮ শতাংশ জমির উপর সাড়ে ৩ হাজার স্কয়ার ফিটের ৩তলা বিশিষ্ট আধুনিক লঞ্চ টার্মিনালটি নির্মিত হয়। ভবনটিতে যাত্রীদের ভ্রমণে অপেক্ষার জন্য আরামদায়ক ভিআইপি ওয়েটিং রুম, বিশ্রামাগার, সহজ প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাসহ স্বাস্থ্যকর পরিবেশে রেস্টুরেন্ট, আধুনিক স্যানিটেশন ও বন্দর অফিসের ব্যবস্থাপনা রয়েছে। পাশাপাশি টার্মিনাল থেকে নিরাপদে পন্টুন ও লঞ্চে ওঠানামার জন্য রয়েছে শক্তিশালী গ্যাংওয়ে। এই টার্মিনাল চালু হলে দ্রুত ও সহজে বাজারের ব্যবসায়ীরা মোকাম থেকে লঞ্চযোগে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। জনবহুল চরফ্যাশনবাসীর জন্য এ টার্মিনাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
#গাজির_খাল_লঞ্চঘাটের_সারাংশ:
গাছিরখাল লঞ্চঘাট ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নে তেতুলিয়া নদীর তীরে অবস্থিত। বর্তমানে উক্ত ঘাটে ঢাকা হতে চরমন্তাজগামী ০১টি দোতলা এবং বরিশাল-লালমোহন-কালাইয়া-বাংলাবাজার-উলানিয়া- পায়রা বন্দর ইত্যাদি নৌপথে চলাচলকারী ৫/৬ একতলা লঞ্চ চলাচল করে। এছাড়াও ব্যাক্তি মালিকানাধীন মাছ ও অন্যান্য মালবাহী বড় আকৃতির ৮-৯ কাঠবডি/স্টীলবডি ট্রলার চলাচল করে। দৈনিক ৩০০-৩৫০ জন যাত্রী উক্ত ঘাটটি ব্যবহার করে থাকে।
নিরাপদ, আরামদায়ক ও ঝুঁকিমুক্ত ভ্রমণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রায় ৭০ লক্ষ্য টাকা ব্যয়ে এই ঘাটটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এই ঘাটটি চালু হলে দ্রুত ও সহজে বাজারের ব্যবসায়ীরা লঞ্চযোগে পণ্য ঢাকাসহ আন্তঃজেলায় পরিবহন করতে পারবে। গাছিরখালবাসীর জন্য এ ঘাটটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও বেতুয়া নদী বন্দর ও গাজির খাল ঘাট এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় বাড়বে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন